ব্যান্ড উইডথ

আমরা আমাদের শেষ পোস্টে আলোচনা করেছিলাম ডেটা কমিউনিকেশন সিস্টেম এবং এর উপাদান নিয়ে। আজ আলোচনার বিষয় হলো ডেটা ট্রান্সমিশন। প্রথমেই একটি প্রশ্ন করতে চাই, তা হলো-

তোমার বাসার ব্যবহৃত ব্রডব্যান্ড লাইনের বা মোবাইলের ডেটা প্যাকেজের স্পিড বা ব্যান্ড উইডথ কত?

এই প্রশ্নের উত্তর ভিন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। কেউ হয়ত বলবে ২ Mbps, কেউ হয়ত বলবে ৪ Mbps। কিন্তু একবার ও চিন্তা করেছ এটা দিয়ে আসলে কি বোঝায়? এই প্রশ্নের উত্তর ই আজ আলোচনার বিষয়।

কম্পিউটার আসলে খুব বোকা যন্ত্র।

এই কথাটি শুনে অনেকের ভ্রূ কুঁচকে উঠতে পারে। কিন্তু হ্যাঁ, আমি এটা বুঝেই বলছি। কম্পিউটার নামক যন্ত্রটি ০ আর ১ ছাড়া কোন কিছু চিনে বা বুঝে না (হুম, কথাটা কিন্তু সত্যি)। এবং কম্পিউটার যা করে তা এই ০, ১ এর সাহায্যেই। এটা নিয়ে পরে আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ।

কম্পিউটারের পরিচিত এই ০ আর ১ কে বিট বলা হয়। Bit (বিট) এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Binary Digit। কম্পিউটারের ডেটা বলতে এই ০,১ এর সমষ্টিকেই বুঝায়। যখন এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে তথ্য বা ডেটা পাঠানো হয়, তখন তাকে ডেটা ট্রান্সমিশন বলা হয়। এবং ডেটা ট্রান্সমিশনের স্পিড কে ডেটা ট্রান্সমিশন স্পিড বা ব্যান্ড স্পিড (Band Speed) বা ব্যান্ড উইডথ (Band Width) বলে।  ব্যান্ড উইডথ হিসেব করা হয় সাধারণত প্রতি সেকেন্ডে কি পরিমাণ বিট স্থানান্তর হচ্ছে তা উপর। অর্থাৎ, bit per second হচ্ছে ব্যান্ড উইডথ এর হিসেব। এখন একটু দেখে নেই নিচের ছকটি –

এখানে, কিলোবাইটের হিসেব থেকে দেওয়া হয়েছে। এর আগের টুকু হলো-

0 / 1 = bit

8 bits = 1 Byte (1B)

1024 Bytes = 1 KiloByte (1KB)

এখন পর্যন্ত যা আলোচনা করলাম, তার সারমর্ম হলো ব্যান্ড উইডথ হচ্ছে আমি প্রতি সেকেন্ডে কি পরিমাণ ডেটা আপলোড করছি বা ডাউনলোড করছি। তুমি তোমার বাসায় ২ Mbps এর ইন্টারনেট লাইন চালাচ্ছো এর মানে তুমি প্রতি সেকেন্ডে (২* ১০২৪*১০২৪) বিট ডেটা আপলোড বা ডাউনলোড করতে পারতেছ।

এই ডেটা ট্রান্সমিশন স্পিড বা ব্যান্ড উইডথ এর উপর ভিত্তি করে ডেটা কমিউনিকেশনের গতিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

  1. ন্যারো ব্যান্ড (Narrow Band)
  2. ভয়েস ব্যান্ড (Voice Band)
  3. ব্রড ব্যান্ড (Broad Band)

 

ন্যারো ব্যান্ড (Narrow Band)

যে ব্যান্ডে ডেটা ট্রান্সফার স্পিড সাধারণত সর্বনিম্ন 45 bps থেকে সর্বোচ্চ 300 bps পর্যন্ত হয়ে থাকে, তাকে ন্যারো ব্যান্ড বা Sub-Voice Band বলে।

  • টেলিগ্রাফিতে ব্যবহার করা হয়।
  • সাধারণত ধীর গতির হয়।

 

ভয়েস ব্যান্ড (Voice Band)

যে ব্যান্ডে ডেটা ট্রান্সফার স্পিড সাধারণত সর্বনিম্ন 1200 bps থেকে সর্বোচ্চ 9600 bps পর্যন্ত হয়ে থাকে, তাকে ভয়েস ব্যান্ড (Voice Band) বলে।

  • সাধারণত টেলিফোনে এটি ব্যবহার করা হয়।
  • কম্পিউটার থেকে প্রিন্টারে বা কার্ড রিডার থেকে কম্পিউটারে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

 

ব্রড ব্যান্ড (Broad Band)

যে ব্যান্ডে ডেটা ট্রান্সফার স্পিড সাধারণত সর্বনিম্ন 1 Mbps থেকে সর্বোচ্চ কয়েক Gbps পর্যন্ত হয়ে থাকে, তাকে ব্রড ব্যান্ড (Broad Band) বলে।

  • ফাইবার অপটিক ক্যাবলে ব্যবহৃত হয়।
  • এছাড়া মাইক্রোওয়েভ, স্যাটেলাইট, রেডিও লিংক ডেটা ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয়।

 

আজকে এই পর্যন্তই। তবে শেষ করার আগে একটি কাজ দিচ্ছি-

মনে করো, তুমি বাসায় ৫ Mbps এর ব্রড ব্যান্ড লাইন ব্যবহার করো, তাহলে ১.৫ GB এর এনিমেশন মুভি Boss Baby ডাউনলোড করতে কত সময় লাগবে?

Image result for boss baby

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *